একদিকে এয়ারলাইনসগুলো নিয়মিত ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকরা কেনাকাটার খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি বড় কোম্পানিগুলো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে ক্রমাগত সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এ সংকটের মধ্যেও বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেনি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের সম্ভাবনাকে ঘিরে বাজারে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। খবর এফটি।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই মাস পার হলেও বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে ৪ দশমিক ২। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের তুমুল আগ্রহ ও উন্মাদনার কারণেই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, তারা এখন এমন সব খাত খুঁজছেন যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে কম। প্রযুক্তি খাত এক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইন্টেল ও টিএসএমসির মতো চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর ব্যাপক বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আশাতীত মুনাফা করেছে।
পিকটেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ লুকা পাওলিনি বলেন, ‘চরম অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা মার্কিন প্রযুক্তি খাতের আয়ের ওপর আস্থা রাখছেন। অনেকের কাছে যুদ্ধ বিরতির চেয়েও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।’
তথ্য বলছে, যেসব সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাতা কোম্পানির বাজারমূল্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২৬ শতাংশ বা ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
ক্যাপিটাল গ্রুপের বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ জন ল্যাম্ব বলেন, ‘এআই চক্রটি কোনো সাময়িক ট্রেন্ড নয়, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগের ধারা।’
তথ্য বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আলফাসেন্সের মতে, বড় কোম্পানিগুলোর প্রথম প্রান্তিকের আয় নিয়ে আলোচনার সময় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কোম্পানি এআই নিয়ে কথা বলছে। অথচ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে কথা বলছে তার অর্ধেক পরিমাণ কোম্পানি। আগের যেকোনো সংকটের তুলনায় এবারের বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বড় কোম্পানিগুলো ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারায়। এমনকি কভিড-১৯ মহামারীর শুরুতেও জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি লোকসান করে। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুদ্ধের প্রথম ১০ সপ্তাহেই এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ৫ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে।